ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎আফতাবনগরে আলিশান ফ্ল্যাট, গ্রামে শোরুম— দুর্নীতির মহোৎসবে বাকেরগঞ্জের দর্জির দুই ছেলে

‎সরকারি পিয়নের পদে থেকে শত কোটি টাকার সাম্রাজ্য!

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১০-০৫-২০২৬ ০৩:৪৮:১০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১০-০৫-২০২৬ ০৩:৪৮:১০ অপরাহ্ন
‎সরকারি পিয়নের পদে থেকে শত কোটি টাকার সাম্রাজ্য! সরকারি নথিপত্রে তাদের
‎ ‎ ‎স্টাফ রিপোর্টার ‎ ‎কলমের খোঁচায় আর দুর্নীতির কালো টাকায় রাতারাতি আলোচিত ধনী! সরকারি নথিপত্রে তাদের পদবি সামান্য ‘অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর’। তৃতীয় শ্রেণির এই পদে যে বেতন মেলে, তা দিয়ে বর্তমান বাজারে মাস পার করাই কঠিন। অথচ সেই সরকারি চাকরির আড়ালেই তারা হাতে পেয়েছেন রূপকথার ‘আলাদিনের চেরাগ’। রাজধানীর অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল— সর্বত্রই লুটপাটের টাকায় গড়ে তুলেছেন শত কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য। বরিশালের বাকেরগঞ্জের এক দর্জির দুই ছেলের এই অবিশ্বাস্য উত্থান এবং দুর্নীতির ভয়াল রূপ দেখে হতবাক খোদ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। ‎ ‎অনুসন্ধানে জানা যায়, বাকেরগঞ্জের চর লক্ষিপাশা গ্রামের মোহাম্মদ আলী সিকদার ছিলেন পেশায় একজন সামান্য দর্জি। তার দুই ছেলে— মেহেদী হাসান প্রিন্স সিকদার ও মোঃ মামুন সিকদার— প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রকল্পের অধীনে অফিস সহকারী পদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দৃশ্যপট জাদুর মতো বদলে যেতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, জনশক্তি রপ্তানির সিন্ডিকেট, অবৈধ ছাড়পত্র বাণিজ্য এবং ঘুষের পাহাড় গড়ে তুলেছেন এই দুই ভাই। ‎ ‎সরকারি চাকরির লেবাস গায়ে জড়িয়ে বর্তমানে তারা রাজধানীর পল্লবীতে :এম.এইচ. ইন্টারন্যাশনাল’নামে বিশাল এক বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে তারা মাল্টি-সেক্টর ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা মূলত কালো টাকা সাদা করার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসার দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে: ‎ ‎ ‎তাদের পারিবারিক মালিকানাধীন মার্কেটে 'বাটা' (Bata) এবং 'ওয়ালটন' (WALTON)-এর মতো নামী ব্র্যান্ডের এক্সক্লুসিভ ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ, ‎মেরিন ইঞ্জিন, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য এবং হার্ডওয়্যার সামগ্রীর বড় ধরনের আমদানিকারক ও সরবরাহকারী হিসেবে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ‎ ‎মিরপুর এলাকায় ইউসিবি (UCB) ব্যাংকের 'উপায়', মার্কেন্টাইল ব্যাংকের 'মাইক্যাশ', এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের 'টেলিক্যাশ'-এর ডিস্ট্রিবিউশন হাউসসহ একাধিক এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা। ‎ ‎সিকদার শপিং প্লাজা', 'সিকদার প্লাজা', 'এম.এইচ. এগ্রো কর্পোরেশন' এবং 'নিলয় শপিং জোন' নামে অসংখ্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ‎ ‎রাজধানীর অভিজাত এলাকা আফতাব নগরে তাদের নামে-বেনামে রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও মূল্যবান প্লট। অভিযোগ রয়েছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আড়ালে মূলত মানি লন্ডারিং এবং হুন্ডির মাধ্যমে আসা কোটি কোটি অবৈধ টাকার লেনদেন চলে। ‎ ‎দুর্নীতির শেকড় শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়েছে নিজ এলাকা বাকেরগঞ্জেও। সেখানে তারা কিনেছেন বিঘার পর বিঘা জমি। নির্মাণাধীন রয়েছে ১০ তলা ভবনের প্ল্যান পাশ করা বিশাল এক বাণিজ্যিক মার্কেট ও ‘সিকদার কমিউনিটি সেন্টার’। সরকারি বেতন স্কেল অনুযায়ী যাদের সাধারণ যানে চলাফেরা করার কথা, তারা সদর্পে দাপিয়ে বেড়ান বিলাসবহুল ‘টয়োটা প্রিমিও’ গাড়িতে। আর শখ মেটাতে গ্যারেজে সাজিয়ে রেখেছেন কয়েক লাখ টাকা মূল্যের স্পোর্টস বাইক ‘ইয়ামাহা আর ওয়ান ফাইভ’। ‎ ‎সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা (১৯৭৯) চরমভাবে লঙ্ঘন করে প্রকাশ্য ব্যবসা পরিচালনা এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন— দেশের প্রচলিত আইনে মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, সরকারি পিয়ন থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া এই দুই ভাইয়ের দাপটে এবং তাদের পোষা ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। ‎ ‎মেহেদী হাসান এর সাথে  যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এটি আমার বাবার প্রতিষ্ঠান, তার কাছে ঐ প্রতিষ্ঠানের এম, ডি, আপনি যানতে চাওয়া হলে  মিথ্যা বলে এড়িয়ে যান। ‎ ‎ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব আসছে...) ‎

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ